যা বলতে চেয়েছিলাম

 গতপরশু  (২৫/০৯/১৪ ইং তারিখে) হয়ে যাওয়া Math Con’14 এ এসে ভালো লেগেছে। এরকম প্রোগ্রাম ডিপার্টমেন্টে নিয়মিত হওয়া উচিত। অনুষ্ঠানের মাঝে আমাকে একসময় মাইক দেওয়া হয় অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে কিছু বলার জন্য। আমি অনেক মানুষের সামনে কথা বলে অভ্যস্ত নই। তাই যা বলতে চেয়েছি তার ৪০% ও বলতে পারি নি। যা বলতে চেয়েছিলাম তার কিছু পয়েন্ট এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করলাম। লেখাটা শুধুমাত্র ১ম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য লেখা, তাই এখানে “তুমি” সম্বোধনটা ব্যবহারকরলাম। তবে ব্যাপারগুলো শুধুই পরামর্শ, পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুসারে প্রয়োগ করতে চেষ্টা করলে ভালো ফল আসবে। 

১) বুয়েট/মেডিক্যাল বনাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণিত বিভাগঃ

১মবর্ষে গণিতে আসার পর সবার প্রথম যে হতাশাটা আসে তা হচ্ছে “আমি বুয়েটে কিংবা মেডিক্যালে ভর্তি হতে পারলাম না আমার বন্ধুদের মত। ওদের মত সুন্দরভবিষ্যত আমাদের আর হবে না !”   এটা একটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। ব্যাপারটা পুরোপুরি বুঝিয়ে বলা সম্ভব না। কারণ কিছু ব্যাপার আছে বলে বোঝানো সম্ভব না, অভিজ্ঞতাই তোমার চোখ খুলে দিবে। বুয়েট থেকে গ্র্যাজুয়েট করলে তুমি হবে ইঞ্জিনিয়ার, যেটা আসলে একটা প্রকৌশল বিষয়ের উপর অনার্স। গণিত থেকে পাশ করলে তুমি হবে গণিতে অনার্স। খুব একটা পার্থক্য আছে কী? মেডিক্যালে ব্যাপারটা একটু আলাদা যেহেতু এটা একটা বিশেষায়িত পড়াশুনার মাধ্যম। তুমি হয়তো ভাবছ, বুয়েট আর ঢাবি গণিতে কিভাবে তুলনা হয়? সত্যি কথা বললে তুলনা হয় না। এই দুইজনের পথ আলাদা তাই আসলেই তাদের মাঝে কোন তুলনা হয় না। কিন্তু আমরা করি “কে শ্রেষ্ঠ” এটার তুলনা। এটা কখনই করা উচিত না, কারণ একজন গণিতবিদ কখনও প্রকৌশলীর কাজ করে দিবে না কিংবা একজন প্রকৌশলীও গণিতের কাজ করবে না। তবে এই দুইটা ক্ষেত্রই একটা আরেকটার উপর নির্ভরশীল। গণিতবিদ কঠিন অংক করে দিলেই প্রকৌশলীর পক্ষে দ্রুত কাজ করা সম্ভব হয়। কাজেই তোমার বন্ধু ভালো প্রকৌশলী হচ্ছে এটা নিয়ে আফসোস না করে ভালোভাবে গণিত করতে বসে যাও। মনে রাখবে তোমার পক্ষে আরও হাজারটা প্রকৌশলী তৈরি করা সম্ভব, কারণ গণিত হচ্ছে সব কিছুর শিকড়। তুমি এইচ.এস.সি তে একটু পিছিয়ে থাকায় হয়তো প্রকৌশলী হওয়ার সুযোগটা মিস করেছ। এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। তুমি এই পিছিয়ে পড়াটাকে বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ধরে ৪ বছর ধরে খুব সহজেই মেক আপ করতে পারবে। তবে আমার পরামর্শ থাকবে- জীবন থেকে “পিছিয়ে পরা/ এগিয়ে থাকা” এই ব্যাপারগুলো বাদ দিয়ে দাও। ছোট্ট এই জীবনটাকে এই অসুস্থ প্রতিযোগিতায় বিলীন করে দিয়ে নষ্ট করার কোন মানে নেই।

২) আমার গণিত ভালো লাগে না, শুধুমাত্র ভর্তি পরীক্ষায় সিরিয়ালে পিছিয়ে থাকার কারণে এই বিভাগে আসলামঃ

এটা আরেকটা হতাশার কারণ। এবং ঠিক এই কারণেই অনেক ছেলেমেয়ের পক্ষে গণিতে ভালো করা অসম্ভব  হয়ে যায়। গণিত এমনিতেই কঠিন বিষয় আর এতে যদি বিরক্ত এসে যায় তবে এগিয়ে যাওয়া একটু কঠিন হয়ে যায়। এক্ষেত্রে আমি বলব যদি কারও সামর্থ্য থাকে তবে অন্য কোথাও ভর্তি হতে পারো। শুধু শুধু নিজের অপছন্দের বিষয় নিয়ে মাথা খাটিয়ে এই ছোট্ট জীবনটার মূল্যবান সময়গুলো  নষ্ট করার কোন মানে নেই। জীবনে ঢাবিতে পড়ার বাইরেও অনেক কিছু করার আছে। পছন্দের বিষয় নিয়ে কোন নামহীন প্রতিষ্ঠানের পড়লেও তুমি ভালো  করতে পারবে কারণ এই বিষয়ের পিছনে তোমার ভালোলাগা আছে যেটাকে তুমি সহজেই ভালোবাসায় নিয়ে যেতে পারবে।

কিন্তু তোমার যদি সামর্থ্য না থাকে কিংবা তোমার কাছে ঢাবিতে পড়ালেখা করাটা একটা সম্মানের ইস্যু হয়ে থাকে তবে আমার পরামর্শগুলো তোমার জন্য। এজন্য তোমাকে তোমার চিন্তার পদ্ধতিটা পরিবর্তন করতে হবে। তোমাকে ভাবতে হবে তুমি আর ৫ বছরপরে তোমাকে কোন অবস্থায় দেখতে চাও? তোমার যে বিষয়টা ভালো লাগে সেটাতে  গণিতে পড়াশুনার পাশাপাশি সময় দিতে শুরু কর। এক্ষেত্রে তোমাকে তুলনা করাটা বন্ধ করতে হবে। তোমার CSE পড়ার ইচ্ছা ছিলো, তোমার বন্ধুরা পড়ছে কিন্তু তুমি সেখানে যেতে পারো নি বলে  আফসোস না করে যেকোন একটা programming language শিখা শুরু করে দাও। তাছাড়া পড়াশুনার বাইরে extra curricular কোন বিষয়ে আগ্রহ থাকলে বাংলাদেশের মাঝে সবচেয়ে ভালো জায়াগতেই তুমি এসেছ। ঢাবির হাজারো সংগঠনের যেকোন একটার সাথে মিশে যাও। তবে এখানে ১ম বর্ষ থেকেই শুরু করাটা খেয়াল রাখতে হবে। কারণ প্রথম বর্ষ হচ্ছে ট্রেনে চড়ার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। এরপরেও অনেক কিছু করা যায়। তবে ভালো আউটপুট পেতে হলে প্রথম থেকেই শুরু করা ভালো। এসব করার পাশাপাশি ক্লাসনোট সংগ্রহ করে রাখার চেষ্টা করে রাখার চেষ্টা কর। নিয়মিত পড়াশুনা করার  অভ্যাস গড়ে তোলার চেষ্টা কর। প্রতিদিন না পারলেও সপ্তাহে ৩-৪ দিন ৪/৫ ঘণ্টা করে পড়াশুনা করে পড়াগুলো শেষ করে রাখার চেষ্টা কর।  এখানে তোমাকে টিচারের দেখানো নিয়মই যে ফলো করতে হবে এমন কোনকথা নেই। এখন টেকনোলজী এর যুগ। ইউটিউব সার্চ দিলেই যে বিষয়টা পড়ছ সেটা নিয়ে অনেক মজার লেকচার খুঁজে পাবে, সেগুলো কখনই তোমার বোরিং লাগবে না (অন্তত প্রথম বর্ষে)। যাদের কম্পিউটার নেই তারা হলে/মেসে থাকা বড় ভাই/আপুর কাছ থেকে পিসি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে নিতে পারো সপ্তাহের অন্তত একটা দিনে কয়েক ঘন্টার জন্য। তুমি পড়ালেখা করতে  চাইলে সাহায্য করার মানুষের অভাব হবে না।  যাদের পক্ষে এটা করা সম্ভব হবে না তাদের জন্য আছে ডিপার্টমেন্টের কম্পিউটার ল্যাব। এখানে পর্যাপ্ত সার্ভিস না পেলে টিএসসিতে সাইবার ক্যাফেতে চলে যাও। এসব কাজ একা একা করতে তোমার বিরক্ত লাগবে বা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে।এজন্য নিজের সাথে মিলে এমন সহপাঠী খুঁজে বের করে তাদের সাথে গ্রুপ ষ্টাডিকর। গ্রুপ ষ্টাডি করার সময় তোমাদের এক সাথে থাকার সময়টুকু ভালোভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা কর। তবে সবসময় নিজের সাথে মিলে এমন মানুষ খুঁজে বের কর, নাহলে লাভ হবে না। তবে খেয়াল করবে, যার সাথে তোমার মিলছে না তাকে কখনও এসব ব্যাপারে কটুক্তি করতে যাবে না বা আরও ভালোভাবে বললে, কারও পিছে লেগে না থেকে নিজেকে গড়ার দিকে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করবে।

 

৩) বোরিং ডিপার্টমেন্ট, কারও মধ্যে একতা নেইঃ

প্রতিব্যাচে ২০০ জন ছাত্র ভর্তি হচ্ছে। ২০০ জনের মধ্যেই কী ভালো বন্ধুত্ব হওয়া সম্ভব? এক অর্থে, এটা কখনই সম্ভব না। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে তুমিদেখবে তোমার ব্যাচের সর্বোচ্চ ৪/৫ জন তোমাকে খুব ভালোভাবে চিনছে। বাকিদের সাথে  তোমার শুধু হাই-হ্যালো সম্পর্ক। তাই গণিত বিভাগে একটা ব্যাচে কোনসিদ্ধান্ত নিতে গেলে সহজে সবাই একমত হবে না।  এ ব্যাপারটা তোমাকে  মেনে নিতেই হবে। কিন্তু তারপরও একতা আনা সম্ভব। তোমার যদি কোন কাজ করার ইচ্ছা থাকে পরিচিত মানুষদের সাথে একসাথে কাজ শুরু করে দাও। ভালো উদ্দেশ্য থাকলে বাকিরা এমনিতেই এসে যোগ দিবে। এই ডিপার্টমেন্টে তোমার মত সবাই মেধাবী। তোমার কাজের উদ্দেশ্য আজকে কেউ না বুঝলেও পরে কোন একদিন কেউ না কেউ বা সবাই বুঝবেই। আর না বুঝলেও কী কোন সমস্যা হবে? কাউকে বুঝানোর জন্য বা সবার কাছে নিজেকে বড় প্রমাণ করার জন্যই কী তুমি কাজে নামবে নাকি ভালো বা সবার জন্য উপকার হয় এমন কিছু করার জন্য কাজে নামবে? প্রথমটা তোমার উদ্দেশ্য হলে কোনকাজে না নামাই ভালো। কারণ এতে তুমি আনন্দ পাবে না। কাজ করবে তুমি নিজের আনন্দের জন্য ও অন্যের ভালোর জন্য।

৪) ক্লাস ভালো লাগে না, টিচারদের কথা স্পষ্ট শুনতে পাই নাঃ

সত্যি কথা বললে ক্লাস করতে কারো ভালো লাগে না। তার ভিতর যদি হয় গণিতের মত কঠিন বিষয় তবে ক্লাসে পড়ার চেয়ে ঘুমাতেই বেশি ভালো লাগবে। হলে/মেসে রাত জেগে কার্ড খেলে, মুভি দেখে যদি ক্লাসে আসো তবে ব্যাপারটা আরও কঠিন হয়ে যায়। তারউপর অনেক স্যারের পড়ানোর ষ্টাইল তোমার ভালো লাগবে না। অনেক বিষয় কঠিন দেখে ক্লাস করতে ইচ্ছা করবে না। এসব ক্ষেত্রে বন্ধুদের সাহায্য নিতে হবে। এছাড়া আমার মাথায় কিছু আসছেও না। কারণ আমি নিজে এ ব্যাপারটাতে বেশ ভালো মতই ভুগেছি। এ ধরনের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের বা ডিপার্টমেন্টকেই বেশি আগ্রহী হতে হবে। আমি এই সমস্যার কোন সমাধান দিতে পারলাম না। তবে গণিতের নতুন বিল্ডিং হচ্ছে। আশা করি সেই বিল্ডিংয়ে ট্রান্সফার হলে টেকনোলজীক্যাল ব্যাপারগুলোর একটা সমাধান হবে।

৫) টিচারদের ভালো লাগে না। প্রাইভেট বিশ্ব বিদ্যালয়ের টিচাররা অনেক স্মার্ট। টিচাররা আমাদের কথা বুঝেন নাঃ 

এখানে একটা বিষয় খেয়াল রাখবে, ডিপার্টমেন্টে যেসব টিচার আছেন তারা অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ। প্রাইভেটে যেসব সুটেড বুটেড টিচার দেখতে পাও তারা উনাদেরই ছাত্র। জ্ঞানের পরিসীমার দিক থেকে তোমার বিভাগের শিক্ষকরা অনেক এগিয়ে আছেন। কিন্তু যেহেতু যুগের সাথে সব কিছুর পরিবর্তন হচ্ছে সেহেতু তোমাদের চাওয়ারও পরিবর্তন হচ্ছে, তাই হয়তো তারা তোমার চাহিদার সাথে মিলছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির ব্যাপারটা থাকায়, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাটা মুখস্থবিদ্যা কেন্দ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থা হওয়ায় এক্ষেত্রে তুমি চাইলেও ভালো সার্ভিস পাবে না। এ ব্যাপারটা যেহেতু তোমার হাতে নেই, সেহেতু আমার পরামর্শ হবে পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিয়ে নিজেকে গড়ে তুলো। বেশি জেদ থাকলে এমন কিছু কর যাতে সিষ্টেমটা তুমি পরিবর্তন করতে পারো।

৬) প্রশাসনিক জটিলতাঃ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা সরকারী প্রতিষ্ঠান। আর বাংলাদেশে যেকোন সরকারী কাজেই অনেক সময় লাগে। তাই নতুন বর্ষে ভর্তি, পরীক্ষার ফি জমা দেওয়া, প্রবেশপত্র তোলা এগুলো বেশ দীর্ঘসূত্রিতার ব্যাপার। এসব কাজ তাই আগে থেকেই শুরু করা ভালো। হাতে সময় পাবে। এ ব্যাপারে কখনও গাফিলতী করো না প্লীজ। কারণ ঠিক সময়ে এসব কাজ শেষ করতে না পারলে তোমার পড়াশুনায় একটা ভালো চাপ পরে যাবে। আমাদের ডিপার্টমেন্টে প্রতি মাসে ৫ তারিখের মাঝেই টিচারদের একটা সভা হয়। এই সভাতে ছাত্র-ছাত্রীদের করা দরখাস্তগুলো নিয়ে আলাপ হয়। তাই তোমার কোন দাবী বা রিঅ্যাড নেওয়ার কোন দরখাস্ত থাকলে তা আগের মাসে ২০ তারিখের মাঝেই ডিপার্টমেন্টের অফিসে জমা দেওয়ার চেষ্টা কর।

৭) প্রসংগ পুনঃভর্তি বা রিঅ্যাডঃ

গণিত বিভাগে এটা একটা কমন সমস্যা। প্রতি বছরেই অনেক শিক্ষার্থী পুনঃভর্তি হয়। আমার উপরের পরামর্শগুলো মেনে চললে কখনই তোমার একই বর্ষে আবার পুনঃভর্তি  হওয়া লাগবে না। তবে মানুষের জীবন যেহেতু কখনও একরকম যায় না সেহেতু এই দুর্ঘটনা ঘটতেই পারে বলে ধরে নিলাম। কিন্তু তুমি যদি একবার পুন:ভর্তি হওয়ার পরও যদি সাবধান না হও তবে তুমি একটা বৃত্তাকার চক্রে পরে যাবে। এই চক্র থেকে বের হওয়ার জন্য তোমাদের প্রতি আমার কিছু পরামর্শ রইল। মানুষ যখন গর্তে পরে তখন তার মাথায় শুধু চিন্তা থাকে সে কিভাবে গর্ত থেকে উঠবে সেটাকে ঘিরে। সে কী পরে আছে, সে দুপুরে কী খাবে এসব নিয়ে কোন ভাবনা তার মনে কাজ করে না। তোমাকেও এমনটাই হতে হবে।

  • চেষ্টা করবে তোমার বর্ষের ছাত্র উপদেষ্টার সাথে যোগাযোগ রাখার।
  • মানসিক সমস্যার জন্য টিএসসিতে কাউন্সেলিং দেওয়া হয়। এমন কোন সমস্যা থাকলে অবশ্যই সেখানে যোগাযোগ করবে।
  • নতুন বর্ষে বেশ কিছু ভালো বন্ধু যোগাড় করে নিতে হবে। না হলে তোমার চলমান বর্ষে কিভাবে ক্লাস হচ্ছে সে সম্পর্কে তোমার কোন আইডিয়া থাকবে না এবং তুমি পরীক্ষায় খারাপ করবে।
  • ইনকোর্সগুলোতে ভালোমত পড়াশুনা করবে। পরীক্ষার আগে আগের বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করবে।
  • প্রশাসনিক কাজগুলো অনেক আগে থেকে (অন্তত ফাইনাল পরীক্ষার ৪ মাস আগে থেকে ) শুরু করার চেষ্টা করবে।

সবশেষে, যারা নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রী তাদের প্রতিও অনুরোধ রইল পুন:ভর্তি হওয়া সহপাঠীকে যেন খারাপ ছাত্রের চোখে না দেখে। এটা ঠিক বয়সের একটা ব্যবধান চলে আসায় অনেক সময় ভালোভাবে মিশাটা কষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু তুমি যখন প্রফেশনাল জীবনে যাবে তখন কিন্তু তোমাকে সিনিয়র-জুনিয়র একসাথেই কাজ করতে হবে। ব্যাপারটাকে তোমার প্রফেশনাল জীবনের একটা ট্রেনিং হিসেবে ধরে নিতে পারো।

৭) গণিত পরে কী হওয়া সম্ভবঃ

এটার উত্তর আমার প্রথম পয়েন্টে কিছুটা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। এখন যেহেতু বিশ্বায়নের যুগ, সেহেতু আমার মনে হয় তুমি একটু ইন্টারনেট ঘাটলেই এই প্রশ্নের ভালো উত্তর পেয়ে যাবে। কিন্তু আমার মতে তুমি যদি শুরুতেই এই প্রশ্নটা কর তবে তোমার পক্ষে কিছু হওয়া সম্ভব না। তুমি গণিতে এসেছ, গণিতটাকে ভালোমত পড়ার চেষ্টা কর। (সাথে তোমার ভালোলাগার জিনিসটা নিয়েও পড়ালেখা চালিয়ে যাও) গণিতে পড়ে তুমি যে ধৈর্য, অধ্যাবসায় আর যুক্তিভিত্তিক জ্ঞানটা অর্জন করবে সেটা তোমাকে জীবনের যেকোন ক্ষেত্রেই সফল হতে সাহায্য করবে। ক্যারিয়ার গাইডলাইন তুমি অনেক পাবে। এমনকি, ৩য় বর্ষ পার হলেই তুমি বুঝে যাবে তোমাকে কিভাবে এগুতে হবে। প্রথমেই এসব নিয়ে টেনশন  (Tension না করে Conscious থাকার চেষ্টা কর ) করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বা কোন কিছু শিখার মজাটা তুমি মিস করবে। আমি শুধু একটা কথাই বলব, গণিত থেকে বের হয়ে কেউ কখনও বসে থাকে না। হয়তো কারও ক্ষেত্রে একটু দেরি হয়, কিন্তু সবাই একসময়  কর্মজীবনে প্রবেশ করে এবং সফল হয়।

৮) ইংরেজী ভালোমত পারি নাঃ

  • বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বা বোল্ড হরফে লেখা অংশগুলো আগে পরে কনসেপ্টটা পরিষ্কার করার চেষ্টা করবে।
  • প্রতিটা শব্দের অর্থ জানার প্রয়োজন নেই।
  • Google translator কিংবা ছোট dictionary ব্যবহার করার চেষ্টা করবে।
  • গ্রুপ ষ্টাডি করলে কখনও এই সমস্যাতে তুমি আটকে থাকবে না।

 

সবশেষে সবাইকে ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে স্বাগতম।

 

Md. Noor Faizur Reza
Author: Md. Noor Faizur Reza

আমার যে কাজ ভালো লাগে তা নিয়ে সারাদিন পরে থাকি !

Permanent link to this article: https://www.borgomul.com/rezanur/2777/


মন্তব্য করুন আপনার ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে

4 comments

Skip to comment form

  1. Je pagol gula Mone kortese gonit pore ki hoa jay tader boli….

    1. Mathematical Researcher, er cheye sommaner kaj ar nai. Tomar kono boss thakbe na. Hoyto Karo guidance thakbe

    2. Actuarial Engineering
    3. Financial Engineering
    4. Statistician
    5. Computer programmer, ji vai nijer chestay shikho. Somoy lagbe kintu onek kichui shikhba. Karon teacher thakbe na. Shadhin moton shikhte parba. And you will be the best. Nije shikhle onek valo shikha jay. Ki boltesi nischoy bujhteso.

    Jara Mone koto petroleum engineering is the highest paying job for the engineers tader boli, tel ses duniya te. At least jotodin notun notun reservoir ba extraction site paoa na jacche oder keu bosaye bosaye salary dibe na.

    Ekta mojar kotha boli, oneke hoyto bujheo bujho na. Assassins Creed game to Sobai khelo. Erokom game banaite jeta dorkar hoy, seta hoilo hardcore math er brain. Animation tweaking er jonne math. Graphics rendering er jonne vector calculus. Polapan toh linear abstract dekhe vaage. Vector valo moton poro, ar matrix. Naile array toire korte jeye bash khaba.

    Polapan algorithm mukhostho Kora bondho koira nije 2 3 khan banao. Agami boi melay jani tomago lekha algorithm er boi baire hoy. Tahole bujhbo first year er agroho ache.

    Vul bollam, aro accurately bolte gele bolte hoy, tomra doya koira pura program suddha mukhosto Kora bondho koto. Kemne je koto ke jaane. Ami toh memorize korleo milaite parum na.

    1. ধন্যবাদ অনোন।

  2. লেখাটা খুব খুব খুব ভাল লাগলো

    1. ধন্যবাদ, দীপু।

মন্তব্য করুন

Discover more from বর্গমূল | Borgomul

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading