তরুণ গবেষকদের প্রতি

কয়েকদিন আগে “Scientific Bangladesh” নামে একটা পত্রিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ফিজিক্স এন্ড টেকনোলজী বিভাগের প্রফেসর ডাঃ খন্দকার সিদ্দীক-ই রব্বানী স্যারের একটা সাক্ষাতকার প্রকাশ পায়। এই সাক্ষাতকারে তিনি তরুণ প্রজন্ম, যারা গবেষক কিংবা যারা গবেষণা করতে ইচ্ছুক, তাদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক কিছু কথা বলেন। বর্গমূলের পাঠকদের জন্য পুরো সাক্ষাতকারটি অনুবাদ করে দেওয়া হল।

60

প্রশ্নঃ তরুণ গ্র্যাজুয়েট যারা গবেষক হতে চায় তাদের পরতি আপনার পরামর্শ কী?

উত্তরঃ (গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কিংবা এর বাইরে স্বউদ্যোগে গবেষণা করতে ইচ্ছুক এমন সব তরুণদেরকে উদ্দেশ্য করে আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি)

আমি বিশ্বাস করি। তোমাদের সবারই হওয়ার মত মেধা এবং ক্ষমতা আছে এবং এই ক্ষমতা তোমরা নিজেদের বাড়িতেই প্রয়োগ করতে পারো। অবশ্যই তুমি যদি কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হও তবে তোমার সুযোগটা বেশিঃ কিন্তু তুমি যদি তোমার যা আছে তা নিয়ে কাজ শুরু না কর তবে একসময় তুমি অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাবে। মনে রাখবে, তোমাকেই তোমার জীবনের দায়িত্ব নিতে হবে এবং কাজও করতে হবে তোমাকেই।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে। “৪০ বছর বয়সের মাঝে কোন কিছু অর্জন করতে না পারলে জীবন ব্যর্থ” – এই ধরনের বিভিন্ন প্রচলিত মতবাদে বিভ্রান্ত হয়ো না। কখনই দ্রুত খ্যাতি পাওয়ার চেষ্টা করো না। একটা পুরনো প্রবাদ মনে রাখবে- ”ফল পাকলে, (এমনিতেই) গন্ধ ছড়ায়”। মাত্রই কিছুদিন আগে উন্নত পশ্চিম থেকে ইদানীং অনেক অপরিণত যুক্তি এবং দর্শন এর উৎপত্তি হচ্ছে, যা আসলে পৃথিবীর স্থায়িত্বের জন্য হুমকিস্বরূপ। অথচ আমাদের মত প্রাচীন সভ্যতা আর কোথাও নেই, যা কিনা একটা স্থায়ী পৃথিবী গড়ে তোলার মত জ্ঞান এবং সংস্কৃতি ধারণ করে।

কখনই মনে করো না যে তোমার কোন অসাধারণ আইডিয়া থাকলে তাকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবে। কারণ শুধুমাত্র একটা আইডিয়া থাকাই যথেষ্ট নয়। তোমাকে আগে নিজের চেষ্টায় এবং নিজের সম্পদ বিনিয়োগ করে তোমার আইডিয়ার উপযোগীতা প্রমাণ করতে হবে। যখন তুমি সফল হবে ঠিক তখনই তুমি দেখবে চারদিক থেকে তোমার কাজের প্রশংসা আসছে, তোমার আইডিয়ার পিছনে বিনিয়োগ আসছে এমনকি অনেক জায়গা থেকে সহায়তাও আসছে! এসবই একটু আগে আমার বলা পুরনো প্রবাদের সত্যতা বহন করে। প্রায় ৩০ বছর ধরে অবিশ্রান্তভাবে কাজ করার পর আজকে আমি একটা ভালো অবস্থায় এসে পৌঁছেছি। এবং আমার সাক্ষাতকার নেওয়ার জন্য “Scientific Bangladesh” এর এই আগ্রহই আমার কাজের “সুগন্ধ ছড়ানো” এর বিষয়টা নিশ্চিত করে।

তবে তোমাকে বাস্তববাদীও হতে হবে। বেঁচে থাকার জন্য তোমার আর্থিক অবলম্বন দরকার। তাই তোমার জীবিকা নির্বাহ করার পরও অল্প কিছু সঞ্চয় করতে সাহায্য করে এমন যেকোন কাজে যোগদান করা উচিত। এখন যেকোন প্রেক্ষাপটে কিভাবে একটা সফল গবেষণা চালানো যাবে তা সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দিচ্ছি-

১) ভারী ভারী নামধারী গবেষণা দ্বারা  চাপে পরে যেও নাঃ

খুব সাধারণ কিছু করার চিন্তা করো, এমনকিছু যা তোমার, তোমার পরিবারের এবং তোমার আশেপাশের মানুষের কাজে লাগবে। এমন কোন প্রযুক্তির কথা চিন্তা করো, যা তোমার পরিবারের কোন কঠিন সমস্যার সমাধান করবে। যখন তুমি তোমার সৃজনশীলতা কিংবা কোন গ্যাজেটের সাহায্য নিয়ে এমন কোন সমস্যার সমাধান করবে, তখন দেখবে এটা অন্যদেরও কাজে লাগছে এবং সম্ভবত তুমি এটা তাদের কাছে বিক্রয়ও করতে পারবে! সবসময় একটা যুক্তিসংগত মুনাফা করার চেষ্টা করবে। কখনই তোমার প্রোডাক্ট উৎপাদন খরচের সমমূল্যে বিক্রয় করবে না! নিজেকে টিকিয়ে রাখতে তোমার মুনাফাটা দরকার পরবে এবং তোমার গবেষণা চালিয়ে যেতে সাহায্য করবে। কিছু প্রোডাক্ট বেচার পর তোমার কাছে হয়তো অভিযোগ আসবে; যেমন- মাঝে মাঝে কিছু নির্দিষ্ট পরিবেশে তোমার প্রোডাক্টে সমস্যা দেখা দিচ্ছে, কিছু ব্যাপারে হয়তো আরও যত্নশীল হওয়া উচিত ছিলো কিংবা কিছু কিছু জায়গায় অন্যভাবে ডিজাইন করা উচিত ছিলো ইত্যাদি। তোমাকে এসব ইস্যুতে চটপট ব্যবস্থা নিতে হবে এবং তোমাকে সমস্যা খুঁজে বের করার জন্য, প্রোডাক্টের গুণগত মান বাড়াতে হলে  ইত্যাদি এর জন্য তোমাকে আরও গবেষণা করতে হবে। এগুলো তোমার ভুলগুলো আরও দৃশ্যমান করে তুলবে এবং তোমার প্রোডাক্টের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি করবে। এই ধাপে এসে অন্যরা তোমাকে কপি করা শুরু করবে কিন্তু তোমার গবেষণা সবসময় তোমাকে এগিয়ে রাখবে। এছাড়াও তোমাকে প্রোডাক্ট ডিজাইন, প্রোডাক্টের উপযোগিতা নিয়ন্ত্রণ , বিক্রয়পরবর্তী সেবা, বিজ্ঞাপন ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করতে হবে। এসবকিছুই একটা সুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করবে যা কিনা সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে। তুমি তোমার লাভ করা অর্থ তোমার প্রোডাক্টকে পরিবর্তন করতে এবং আরও জটিল কিন্তু ব্যবহারে সহজ এবং উপকারী প্রোডাক্ট তৈরি করতে কাজে লাগাতে পারবে। একটা সময় তুমি দেখতে পাবে তুমি তোমার মুনাফা দিয়ে ভালোভাবেই জীবিকা নির্বাহ করতে পারছ এবং তখন তুমি তোমার চাকরী (যা তুমি বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যুনতম চাহিদা মেটাতে নিয়েছিলে) ছেড়ে দিতে পারবে, এমনকি হয়তো তুমি অন্যদের জন্য চাকরীর সুযোগও তৈরি করতে পারবে!  পাশাপাশি যদি তুমি তোমার সৃষ্টিশীলতার চর্চা ধরে রাখো এবং তোমার সহকর্মীদেরও সৃষ্টিশীলতার চর্চা ধরে রাখতে উৎসাহ দিতে থাকো তবে এক বা দুই দশকের মাঝেই কোন একটা নির্দিষ্ট প্রোডাক্ট উৎপাদনে এলাকাভিত্তিক বা বৈশ্বিকভাবে নেতৃস্থানীয় অবস্থায় পৌঁছে যাবে। একসময় তুমি দেখবে তুমি বাস্তবধর্মী এবং অন্যকে মুগ্ধ করার মত কাজ করছ!

২)  এমন কিছু করার চিন্তা কর যা তোমার নিজস্ব জ্ঞান ও দক্ষতা দিয়ে অর্জন করা সম্ভবঃ

এমন একটা কিছু যা তোমার কাছে থাকা সম্পদ দিয়ে খুব সহজে করা যায় এবং বসে না থেকে কাজে নেমে পর, শুরু কর! আমি আবার বলছি, “শুরু কর” কারণ কাজে নামলেই আরও অনেক নতুন আইডিয়া মাথায় আসবে। এসব আইডিয়া হয়তো তোমার চিন্তাতেই আসত না যদি তুমি কাজে না নেমে শুধু পরিকল্পনাই করতে থাকতে! শুরুতেই অনেক বড় কিছু করার চিন্তা করো না, চেষ্টা কর সাধারণ কোন কিছু করতে!

৩) এই পন্থায় এগিয়ে যেতে থাকলে তুমি সম্ভবত সহজেই একটা ছোটখাট সাফল্য পেয়ে যাবে যা তোমার মাঝে প্রশান্তি নিয়ে আসবে এবং তোমার চেনাজানা মানুষদের মাঝে তোমার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে। যখন মানুষজন তোমার সৃষ্টিশীল ক্ষমতা সম্পর্কে জানবে তখন তারা তোমার প্রশংসা করা শুধু করবে এবং না চাইতেই তুমি হয়তো আর্থিক সহায়তা পেয়ে যাবে!

উপরে বর্ণিত পদ্ধতিগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য একটা উদাহরণ দেওয়া যাক। ধর, তোমার বাসায় একটা রেফ্রিজারেটর আছে এবং তুমি অফিসে যে পানি নিয়ে যাও তা কয়েকঘন্টার জন্য ঠান্ডা রাখতে চাও। তুমি বোতলকে পুরু পলিথিন অথবা পলিস্টারিন ফোম(যা আমরা ‘কর্কশিট’ নামে চিনি) দিয়ে ঢেকে বাইরের অংশে অন্য কোন ধাতব পদার্থ/যেকোন কিছুর প্রলেপ দিয়ে কিংবা পাটের ব্যাগ/প্লাষ্টিক ব্যাগ ব্যবহার করে সহজেই এই কাজটা করতে পারো। এখন তোমার স্বল্পমূল্যের ফ্লাস্ক সম্পর্কে কিছু গবেষণা করা উচিত। অনেক তরুণরাই বিজ্ঞানমেলার জন্য এধরনের আইটেম তৈরি করে। কিন্তু তারা গবেষণা করতে চায় না। তোমার গবেষণার জন্য তোমাকে কিছু হিসাব-নিকাশ করতে হবে; যেমন- কোন নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় (বিশেষ করে অফিসে) কিভাবে পানির তাপমাত্রা বাড়ছে তা বের কর। তারপর অন্তরণের (insulation) পুরুত্ব এবং বাইরের প্রলেপের উপাদান পরিবর্তন কর, এই পরিবর্তনের সময় পানির তাপমাত্রা পরিবর্তনটা খেয়াল কর। তারপর প্রাপ্ত ফলাফল ব্যাখ্যা করার জন্য তোমার বিজ্ঞানের জ্ঞান প্রয়োগ কর। এটা তোমাকে ডিজাইন এবং মাপজোখে আরও পরিবর্তন করতে সাহায্য করবে। উপরের রেজাল্টের ভিত্তিতে স্বল্প উৎপাদন খরচ, আকৃতি, ব্যবহার উপযোগীতা, নান্দনিকতা ইত্যাদি বিবেচনা করে তোমার চুড়ান্ত ডিজাইনের জন্য উপযুক্ত উপাদান এবং পুরুত্ব বাছাই করবে।

তো এই পর্যায়ে এসে তুমি একটা গবেষণা করেছো, এখন এটাতে কী অধিক অর্থ বিনিয়োগ করা জরুরী?  

যখন তুমি নিজেই প্রোডাক্টটি ব্যবহার করা শুরু করবে, তুমি দেখবে বাকিরাও এটা ব্যবহার করতে চাইছে! প্রোডাক্টটি বিক্রয় করা শুরু কর এবং উপরে যেভাবে বর্ণনা করেছি সেভাবে ধাপে ধাপে এগিয়ে যাও। তুমি নিজেও জানবে না, তুমি কোথায় পৌঁছে যাবে! পথ চলতে চলতে অনেক নতুন প্রোডাক্ট এর আইডিয়া এবং  নতুনত্ব (innovation) বের হয়ে আসবে!

যদি তুমি কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরী পেয়ে থাক, তবে সেখানেও এই পদ্ধতিতে গবেষণার আইটেম বাছাই কর। যখন তুমি একটা সাধারণ আইটেমেই সাফল্য পাবে, তখন তোমার সিনিয়ররাও তোমার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। এটা তোমার গবেষণার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে সাহায্য করবে। সংস্থা থেকেই যাতে তোমার প্রোডাক্টের পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয় সে ব্যাপারে তাদেরকে রাজী করাও। আমি জানি শুরুতেই এমন কিছু করা অনেক কঠিন, তবুও পারলে তোমার জুনিয়র গবেষকদের বোঝানোর চেষ্টা কর এবং তাদেরকে তোমার মতই কোন একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গবেষণার ব্যাপারে উৎসাহ দাও। এই ধরনের সমবায় চেষ্টাই একসময় কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে!

যদি কেউ আগ্রহ না দেখায়, তবে বাড়িতে নিজে নিজেই আইটেমটি বানিয়ে ফেল এবং বন্ধুবান্ধব ও আত্নীয়স্বজনদের মাঝে ঘরোয়াভাবে এটা বিক্রয় করার চেষ্টা কর এবং এ থেকে লাভ হওয়া টাকা নিজের বাসাতেই আরও গবেষণা করার কাজে ব্যবহার করতে পারো! খরচ পোষাণোর পর অতিরিক্ত যতটুকু অর্থই লাভ করনা কেন, তা জমানোর চেষ্টা কর। এটা তোমাকে কাজের ক্ষেত্র প্রসারে সাহায্য করবে। আমি এ ধরনের কাজকে কোনমতেই অনৈতিক মনে করি না। কারণ এ ব্যাপারে তোমার অফিসের সিনিয়ররা যাই ভাবুক, মনে রাখবে তোমার কাজ একসময় পুরো জাতির কাজে লাগবে এবং এটাই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যথায় তোমার গবেষণার সকল ফল গবেষণাগারেই পচে নষ্ট হবে। উদাহরণস্বরূপ, তুমি যদি BCSIR এর দিকে তাকাও, তবে দেখতে পাবে সেখানে প্রস্তুত হওয়া অনেক আইটেমই বাজারজাত হয়নি!  তাই বলা যায়, এসব আইটেমের পিছনে ব্যয় হওয়া জনগণের টাকা এক অর্থে অপচয়ই হয়েছে।

যদি তোমার প্রোডাক্টের ভালো বাজার পাবার সম্ভাবনা থাকে, তবে তোমার জমানো টাকা দিয়ে একটা ছোট কোম্পানী খোলার চেষ্টা কর। এ ব্যাপারে আমার পরামর্শ হচ্ছে কোন বন্ধু বা ধনী ব্যক্তিকে শেয়ারহোল্ডার হিসেবে নিয়োনা। যদি কেউ উপহার দেয় বা অল্প ঋণ দেয়, তুমি সেটা নিতে পারো কিন্তু তোমার ব্যবসার কর্তৃত্ব কাউকে দিয়ো না। তোমার প্রোডাক্ট সম্পর্কে তুমি-ই সবচেয়ে ভালো জানো, প্রয়োজনে এটা কীভাবে  পরিমার্জন (modify) করতে হবে এটা একমাত্র তুমিই বুঝবে, তোমার ক্ষমতা সম্পর্কে তুমি-ই সবচেয়ে ভালো জানো। ব্যবসায় সাফল্য পাওয়ার পরও এরকম অনেক উদ্যোগই বন্ধ হয়ে যায় শুধুমাত্র পার্টনারশিপে সমস্যা থাকার কারণে। অনেক শুভাকাঙ্খীই তোমাকে বলবে,”তুমি হচ্ছ বিজ্ঞানী, তুমি ব্যবসা বুঝবে না। তোমার প্রোডাক্ট কোন অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীকে দিয়ে দাও।” আমি এ ব্যাপারে অনেক কষ্ট করে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। আমি সব ধরনের পদ্ধতিই একবার করে চেষ্টা করেছিঃ প্রায় সবক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছি এবং নিজেকে একজন অস্থায়ী উদ্যোক্তায় রুপান্তর না করা পর্যন্ত সাফল্য পাইনি। আমার বাসার ড্রয়িংরুম ছিল আমার প্রথম সফল কারখানা। পৃথিবীর ইতিহাসের দিকে তাকালে আমি দেখতে পাই যে, সব সফল প্রায়োগিক ব্যবসা তাদের স্রষ্টাদের(যারা প্রথম এই ব্যবসার আইডিয়াটা সামনে নিয়ে এসেছে) দ্বারাই গোড়াপত্তন হয়েছে। Microsoft, Apple computers, IBM, Sony, Marconi, Ford, Edison, Cartwright, James Watt- সবার গল্প একই। এবং এর বাইরে বিকল্প কোন রাস্তাও নেই।

একমাত্র নিজস্ব R&D প্রয়োগ করে গড়ে উঠা কোম্পানিই গবেষণা এবং ধৈর্য্যর মূল্য বুঝতে পারে। এ ধরনের ইন্ডাষ্ট্রিগুলো পরবর্তী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদেরও পৃষ্ঠপোষকতা(support) দিতে পারবে। যা-ই হোক, আমাদের দেশে, এমনকি পুরো তৃতীয় বিশ্বেই নিজস্ব R&D এ তৈরি প্রোডাক্ট এর উপর ভিত্তি করে কোন বৃহৎ বা মাঝারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেনি। আমাদের দেশের অধিকাংশ ধনী ব্যবসায়ীরাই হয়তো বাণিজ্য অথবা পুরোপুরি বিদেশী প্রযুক্তিতে গড়ে উঠা ইন্ডাষ্ট্রির উদ্যোক্তা। তারা খুব দ্রুত তাদের বিনিয়োগ তুলে ফেলতে চায়, তোমার প্রোডাক্টকে পরিণত ও সফল হতে দেখার মত ধৈর্য তাদের নেই। তোমার প্রোডাক্ট হচ্ছে তোমার ‘সন্তান’। একে সফল হতে না দেখা পর্যন্ত তোমাকে সব ধরনের পদ্ধতিই অন্তত একবার করে প্রয়োগ করতে হবে এবং কোন প্রোডাক্টের সফল মার্কেটিং এর জন্য এর কোন বিকল্প নেই!

 

 

সবশেষে ড: রব্বানী স্যারের সাফল্যের উপর ভিত্তি করে প্রচার হওয়া একটা টিভি রিপোর্টের লিংক দেওয়া হলঃ

ATN news report

এছাড়া বায়পমেডিকেল ফিজিক্স সম্পর্কে ড: রব্বানী স্যারের সাক্ষাতকারঃ

http://www.youtube.com/watch?v=o9jzbmQMrmI

Original Interview Link : Scientific Bangladesh

Md. Noor Faizur Reza
Author: Md. Noor Faizur Reza

আমার যে কাজ ভালো লাগে তা নিয়ে সারাদিন পরে থাকি !

Permanent link to this article: https://www.borgomul.com/rezanur/1763/


মন্তব্য করুন আপনার ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে

মন্তব্য করুন

Discover more from বর্গমূল | Borgomul

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading