আমেরিকাতে উচ্চতর শিক্ষা

একাডেমিক সফলতার জন্য লক্ষ্য স্থির করাটা গুরুত্বপূর্ণ !! “যদি–হয়–তবে” এই তিনটি শব্দ বাদ ! সমাজ নানান কথা বলে, যেমন আমি যখন জি,আর,ই পড়ি, সবাই বলা শুরু করল কিরে আমেরিকা যাচ্ছিস কবে? কিংবা তুই এখনও দেশে কেন? পরীক্ষার আগে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ফেললাম !! স্কোর ভালো হলোনা !! তখন আবার সবাই হেসে বলল, ব্যাপারনা, বেটার লাক নেক্সট টাইম !! তখন যদি কিছু ইনফর্মেটিভ বড় ভাই বা যারা ভালো জানে তাদের কাছ থেকে ইনফরমেশন পেতাম, আমি ২০১২ তেই আমেরিকা আসতে পারতাম !! কারণ লো-স্কোর নিয়েও আসা যায় !! যেটা পরবর্তিতে শিখেছি, এই “যদি–হয়–তবে” এই গুলো বাদ !! সোজা লক্ষ্যের দিকে দৌড়াও !! এ ক্ষেত্রে অবশ্য পারিবারিক সমর্থন লাগে, যেটা আমি পেয়েছি। গ্র্যাজুয়েশন করার পড়েও বাবা-মা চাপ দেননি রোজগার করতেই হবে, তাদেরকে টাকা দিয়ে সহায়তা করতে হবে !! এখন সবার এমন হবে তারও মানে নেই !! তবে লক্ষ্যটা ৩য় বর্ষে পড়ার সময় থেকেই ঠিক করে ফেলা সময় উপযোগী সিদ্ধান্ত !!

এখন আসি, কেন লিখতে বসলাম? আমেরিকায় প্রতিটা স্ট্যাটেই কমপক্ষে ৮ থেকে ৯ বা তাঁর অধিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এরমধ্যে ২ টা থেকে ৩ টা খুব ভালো মানের বিশ্ববিদ্যালয় !! তবে বিষয় ভিত্তিক ক্ষেত্রে আরও কম ! আমি এখন পর্যন্ত এটা নিয়ে মাথা খাটিয়ে যা পেলামঃ টেক্সাস, ওহাইও, ফ্লোরিডা, ওয়াশিংটন ইত্যাদি স্টেটে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই আছে যেখানে অনেক ক্ষেত্রে জি,আর,ই বলে স্কোর থাকলে ভালো, না থাকলেও সমস্যা নাই !! এখানে মনে রাখতে হবে, বাহিরের বিশ্ববিদ্যালয় যা লেখে তাদের ওয়েব-সাইডে, তাই তারা মেনে চলে !! অনেকে আমাদের টিপিক্যাল বাংলাদেশী মানসিকতা্র কারনে মাথায় আসে, আরে এসব ভর্তি ফি খাওয়ার জন্যই লেখা থাকে, আসলে জি-আর-ই তে স্কোর ভালো না হলে নিবেই না !! বলি, না নেয়ার সিদ্ধান্ত যদি হয় তবে এমনিতেই হবে, জি-আর-ই স্কোর শুধুমাত্র একটু দেখে তখনই যখন দেখে একাডেমিক রেজাল্ট খারাপ !! এখন একাডেমিক রেজাল্ট ভালোনা আবার জি-আর-ইও ভালোনা, তবে কেউ তো আর দয়া করবেনা !! দয়া-দাক্ষিণ্য একাডেমিক বিষয়ে নেই !! যা কিছু আছে, নিজের কাগজ কথা বলবে !! সুতরাং শুধু মাত্র আমেরিকায় আসার ভাবনায় যারা আছেন তাদের উচিৎ হবে আই-ই-এল-টি-এস অথবা টোফেল এর দিকে ভালো করে নজর দেয়া !! এখানে ক্লাস বুঝা ও টিউটরিং করা ও যোগাযোগ রক্ষা করার ক্ষেত্রে ইন্টারনেট বেইজড পরীক্ষার অন্তত্য ৯০ থাকা উচিৎ !! এ ছাড়া ভালো স্টেটমেন্ট – অফ – পারপাস নিজের মতকরে লেখাটার জন্য ভালো ইংরেজি জানা দরকার !!

এখন যারা ফল ২০১৬ তে আবেদন করতে আগ্রহী, হাতে আছে অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বর !! এই তিনমাসের ১ম ১৫ দিন ইন্টারনেট ঘেটে কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে জি-আর-ই আবশ্যক না তা খুঁজে বের করেন। একটা তালিকা বানান !! সেই তালিকার “এডমিশন”-সেক্টরে গ্র্যাজুয়েট এডমিশন এর রিকুয়ারমেন্টস কি কি সে অনুযায়ী আপনার লেপটপ বা কম্পিউটারে আলাদা আলাদা ফোল্ডার বানান, যেখানে সেই কাগজগুলো সংগ্রহ করে রাখেন !! প্রয়োজনীয় কাগজ যা চায় তা ৯০% বিশ্ববিদ্যালয়েই একই !! কিন্তু আলাদা আলাদা এস-ও-পি রাখাটা নিশ্চয়ই আবশ্যক !! এমনকি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে কত টাকা লাগবে সেটাও লিখে রাখেন !! এখানে আরেকটা তথ্য হচ্ছে, যদি আপনি আপনার ফিন্যান্সিয়াল প্রুফ দেখাতে পারেন যে আপনার পক্ষে আবেদন ফি দেয়া সম্ভব না, সেক্ষেত্রে ভালো করে একটা মেইল লিখে গ্র্যাজুয়েট কো-অর্ডিনেটর কে ইমেইল করলে তারা সেই টাকা মওকুফ করে দেয়, এর জন্য আলাদা বোর্ড থাকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে !! সুতরাং ১০টা বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার ভাবনা থাকলে ৫টা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করতে পারেন, যেখানে লক্ষ্য থাকবে না ভর্তি হতে পারলেও সমস্যা নাই, সেগুলোতেই এই ইমেইল করতে পারেন !! তবে এ ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ও গুরুত্বপূর্ণ, যদি উচ্চতর রেংক এর বিশ্ববিদ্যালয় তারা এই টাকা মাফ করে বেশি !! আর বাকী ৫টা বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করেন যেখানে সম্পূর্ণ লক্ষ্য থাকবে হতেই হবে !!

সুতরাং, ভর্তি পাবার জন্য পরিষ্কার ছবিসহ ভালো সি,ভি, প্রতিটা একাডেমিক পেপার্স এর পি,ডি,এফ স্ক্যান ফাইল, আপডেটেড পাসপোর্ট, ৩জন শিক্ষককে বলে রাখা ভালো রিকমেন্ডেশন লেটার ঠিক করে রেখে আপনি প্রথমেই ফোকাস করেন নভেম্বরের মধ্যেই টোফেল দিয়ে দেয়ার জন্য !! আর টোফেল দিয়েই এপ্লাই করা শুরু করেন। টাকা তখনই পে-করেন, যখন দেখবেন আপনার রিকমেন্ডেশন লেটার ৩টাই দেয়া হয়ে গেছে। স্কোর এসে গেছে ও হাতে সব কাগজ এসে গেছে যে পোষ্ট মেইলে আপনি পাঠাতে পারবেন !! এখানেও কম খরচের উপায় আছে, আপনাকে ডি,এইচ,এল বা ফেড-এক্সের মত বেশি টাকা খরচ করতে হবেনা !! দেশের কুরিয়ার গুলোর আন্তর্জাতিক কুরিয়ারে পাঠালে দুবাই বা দোহাতে এসে সেগুলো ডি-এইচ-এল হয়ে যায় !! ক্রেডিট কার্ডে টাকা পে করার ক্ষেত্রে বাইরের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানে গেলে খরচ বেশি হবে, সেক্ষেত্রে আমি সহ ডিপার্টম্যান্টের বড় ভাই – বোন যারা আছে তারা সবাই বাড়িতে টাকা পাঠায়, আপনি চাইলে এই মাধ্যমে টাকা তার পরিবারকে প্রদান পূর্বক এই টাকা পে-করিয়ে নিতে পারেন !! আর সব শেষে একটা কথাঃ
গণিতের শিক্ষার্থীদের জি-আর-ই / টোফেল দিয়ে এপ্লাই করলে হয়ে যাবার সম্ভাবনা শতভাগ। কিন্তু জি-আর-ই ছাড়া এসকল লোয়ার রেংকিং এর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু টোফেল দিয়ে এপ্লাই করলেও ভর্তি হয়ে যাবার সম্ভাবনা ৯০% এর উপড়ে থাকে যদি লেখা থাকে, GRE is recommended but not required !!

*** এখানে তেমন কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম দিলামঃ

**Arizona State University
**Baruch College/CUNY (New York City)
**California State University, Sacramento (CSUS)
**Florida Institute of Technology (Melbourne, FL)
**Illinois Institute of Technology (Chicago, IL)
**Indiana University – Purdue University Indianapolis (IUPUI)
**Johns Hopkins University’s (Baltimore, MD) Engineering for Professionals (EP) program
**New Mexico State University (Las Cruces, NM)
**North Carolina State University (Raleigh, NC)
**Santa Clara University’s (Santa Clara, CA)
**Southern Illinois University Edwardsville’s (SIUE)
**University of Dayton (Dayton, OH)
**Wright State University (Dayton, OH)
**University of Idaho
**University of North Dakota
**Washington State University (Pullman, WA)

 

________
আতিক !!

Permanent link to this article: https://www.borgomul.com/leatique/3613/


মন্তব্য করুন আপনার ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে

মন্তব্য করুন

Discover more from বর্গমূল | Borgomul

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading