পুরস্কারের খোঁজে

দুঃখজনক হলেও সত্য আমি গত এক বছরে অনেক ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও (!!!) বর্গমূলে লিখতে পারি নি। কী নিয়ে লিখি চিন্তা করে করেই একটি বছর চলে গেলো।

ঘটনা শেষ হবার প্রায় মাস দেড়েক পরে লিখতে বসলাম। না ঘটনা বলতে ইয়ার ফাইনালের কথা বোঝাচ্ছি না, সেটার দুঃসহ অভিজ্ঞতা সবারই আছে। আর যার সেই অভিজ্ঞতা দুঃসহ না, মধুর, তাঁকে আমার কিছু বলার নাই। শুধু একবার তার পায়ের ধূলা নিতে পারলেই নিজেকে সার্থক মনে করবো। যাক আবোল-তাবোল কথা বাদ দিয়ে ‘ঘটনা’য় ফেরত আসি। শিরোনাম দেখেই বুঝে যাওয়ার কথা কোন একটা প্রতিযোগিতা নিয়ে বলছি, অবশ্যই গণিতের প্রতিযোগিতা 😀 ।

বলছিলাম স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডের কথা। যদিও নামকরণে বিশাল ভুল আছে। অলিম্পিয়াডটি প্রাক-স্নাতক পর্যায়ের। অর্থাৎ যারা এখনো ব্যাচেলর পড়ছে কিন্তু ডিগ্রি পূর্ণ করে নাই (অবশ্যই বিজ্ঞানের কোন বিষয়ে) সেসকল শিক্ষার্থীদের মাঝে গণিতের দক্ষতা যাচাইয়ের এ প্রতিযোগিতা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গণিত অলিম্পিয়াড যেটি হয় সেটি শুধু হাই-স্কুল (আমাদের দেশের এইচএসসি) পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝেই। বিস্তারিত পাওয়া যাবে এখানে ( https://www.imo-official.org/ ) । ও হ্যাঁ, ভুলেই গিয়েছিলাম বলতে। প্রথম আলো-ডাচ বাংলা ব্যাঙ্কের সহযোগিতায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি প্রতিবছর যে গণিত উৎসব আয়োজন করে আসছে সেটিও হাই-স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরকেই লক্ষ্য করে। তাদের বিস্তারিত আছে এখানে ( www.matholympiad.org.bd ) । এই অলিম্পিয়াডের মাধ্যমেই প্রতিবছর বাছাই করা দল পাঠানো হয় আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে। কিন্তু আমি সেই অলিম্পিয়াড নিয়ে লিখতে বসি নি, প্রাক-স্নাতকদের কথায় ফেরত আসি।

আইএমওতে যদিও প্রাক-স্নাতকদের স্থান নেই, তাদের জন্যে বাংলাদেশে (এবং আন্তর্জাতিকভাবেও) গণিত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয় । বাংলাদেশে এ কাজটি করে বাংলাদেশ গণিত সমিতি ( http://bdmathsociety.org/ ) । যারা জানে না, গণিত সমিতির অফিস আমাদের কাজি মোতাহার হোসেন ভবনেরই তিন তলায় ছিলো। নতুন মুজিবুর রহমান ভবনের কোথায় অফিসের স্থান হবে সেটা জানলেই পোস্ট আপডেট করে দেয়া হবে। অপ্রিয় হলেও সত্য, সকল কাজেই টাকা লাগে। হাই-স্কুলের গণিত অলিম্পিয়াডের স্পন্সর ডাচ-বাংলা ব্যাঙ্ক, কিন্তু স্নাতক গণিত অলিম্পিয়াডের জন্যে এমন স্পন্সর পাওয়া যাচ্ছিলো না। তাই এগিয়ে এল সবেধন নীলমণির মত এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন। এই ফাউন্ডেশন গণিতের জন্যে কী কী করে তা নিয়ে লিখলেই সার্ভার ভরে যাবে, তাই সেদিকে গেলাম না আর। এই অলিম্পিয়াডটা আয়োজন করা হয় বছরের শেষ দিকে। শেষ দিক মানে অক্টোবর-নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে। সারা দেশকে কিছু অঞ্চলে ভাগ করে নিয়ে প্রতি অঞ্চল থেকে দশজন বাছাই করা হয়। সবশেষে জাতীয় পর্যায়ে দশজনকে পুরস্কার দেয়া হয়। আন্তর্জাতিকভাবে বেশ কিছু প্রতিযোগিতাই আয়োজন করা হয়। তাদের মাঝে আমার কাছে ( http://www.imc-math.org.uk/ ) এটিকেই সবচেয়ে আকর্ষণীয় মনে হয়েছে। এই অলিম্পিয়াডে এখনো দেশ থেকে প্রতিযোগী পাঠানো শুরু হয় নাই। প্রথম কারণ টাকা নাই, দ্বিতীয় এবং প্রধান কারণ আমাদের শিক্ষার্থীরা এখনো তৈরি হয়েছে বলে শিক্ষকেরা মনে করেন না ।

তৈরি যে আমরা হচ্ছি না সেটা শিক্ষকদের দোষ দিয়ে লাভ নাই। আমরা নিজেরা দুধে ধোয়া তুলসী পাতা না। প্রথম কথা হলো আমরা পড়ি না। পড়ার ধৈর্য্য, উৎসাহ, ইচ্ছা কোনটাই আমাদের মাঝে নাই। ডিপার্টমেন্টের বই না পড়লাম, সেটা বিরক্তিকর সবারই লাগে। কিন্তু ‘কিছু একটা’ও কি আমরা শিখছি? বেশিরভাগই শর্টকাটে জিপিএ বাড়ানোর ধান্দায় আছি। এতে না হয় জিপিএ, না হয় কিছু শেখা। দুঃখের কাহিনী এটাই শেষ না। ডিপার্টমেন্টের ব্লগ, আরো কিছু দুঃখের খবর এখানে বলাটা জায়েয আছে। আমরা দেশের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র (কার ঘাড়ে একাধিক মাথা আছে আমাদেরকে সেরা না বলে পার পাবার? B| ) । কিন্তু এইবারের স্নাতক অলিম্পিয়াডে ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় প্রথম দশজনের মাঝে আমাদের বিভাগের মাত্র দু’জন পুরস্কার পেয়েছে। বাকি আটজনই বুয়েটের। হলফ করে বলতে পারি, বুয়েটের শিক্ষকরা কোন দিক দিয়েই আমাদের শিক্ষকদের চেয়ে বেটার না (একটু তেল মারলাম আরকি) । সেখানকার বন্ধুবান্ধবদের কাছে জানতে চাইলেই বোঝা যায় তাদের গণিত ক্লাস কেমন হয়। আমি বুয়েটের সাথে প্রতিযোগিতার কথা আনছি না, কারণ আমার স্কুল-কলেজজীবনের বেশিরভাগ বন্ধুই সেখানে পড়ে। কিন্তু আমাদের সিলেবাস ওদের চেয়ে ভালো, ক্লাসগুলো (অন্তত গণিতের) ওদের চেয়ে ভালো, সর্বোপরি আমরা গণিতের শিক্ষার্থী। সেই আমরাই যদি অন্য কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্তত গণিতের প্রতিযোগিতায় না পারি, এর চেয়ে হতাশার বাণী আর কী হতে পারে? 🙁

মেঘ দেখে কেউ … ব্লা ব্লা ব্লা … ফিরে আসে। দিন ফুরায় নাই, তবে ফুরায় যাবে যদি আমরা এখনই শুরু না করি। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে একই সিলেবাসে ( http://www.buet.ac.bd/math/DRUMO13/Announcement.pdf ) পরীক্ষা হয়েছে। মজার ব্যাপার হলো সেটি আমাদের প্রথম বর্ষের সিলেবাসের মাঝেই থাকে। দ্বিতীয় বর্ষ থেকে একটু ক্যালকুলাস আসে, সেটি শিখে ফেলা খুব কষ্টকর না। ব্যাপারটা স্যালাইনের মত, আধা লিটার সময়ে এক মুঠ ফার্স্ট ইয়ারের ক্যালকুলাস, লিনিয়ার, জ্যামিতি আর এক চিমটি সেকেন্ড ইয়ার ক্যালকুলাস। ২০১৫তে কতখানি পাল্টাবে তা জানি না, তবে প্রথম বর্ষের আয়ত্তের মাঝেই থাকবে। কেন থাকবে কারণ বললে আমার নামে মানহানির মামলা হতে পারে তো, তাই পাবলিকলি বললাম না। আমার কাছে ব্যক্তিগতভাবে জানতে চাইলে বলে দিবো।

অনেকক্ষণ বকরবকর করলাম। ভুলচুকের জন্যে ক্ষমা চাই না। আমি মানুষ, ভুল করার অধিকার আমার আছে। তবে ভুল পেলে জানায় দিয়েন। সংশোধন করে দিবো। পারলে শেয়ার দেন, আমার নাম ফাটুক, আমিও একটু-আধটু বিখ্যাত হই 😉 ।

সবার ক্রিটিকাল পয়েন্টে সেকেন্ড ডিফারেনশিয়াল নেগেটিভ হোক। 🙂

পুনশচঃ প্রাইজ পেলে ভালো টাকা-পয়সা দেয়। এ বছর ঢাকা অঞ্চলের প্রতি বিজয়ীকে এক হাজার করে আর জাতীয় পর্যায়ের প্রতি বিজয়ীকে দশ হাজার করে দেয়া হয়েছে। 😉

ফুটনোটঃ পোস্ট বড় হয়েছে মনে করলাম, পরে দেখি আমার মতই পিচ্চি পোস্ট 😀 । আর কেউ একটা শিরোনাম দিয়ে দেন। আমি লেখা পয়দা করেই শেষ, শিরোনাম আর আসতেছে না।

জুনায়েদ নিবিড়
Author: জুনায়েদ নিবিড়

আপনারে আমি খুঁজিয়া বেড়াই

Permanent link to this article: https://www.borgomul.com/nibir2738/3269/


মন্তব্য করুন আপনার ফেসবুক প্রোফাইল ব্যবহার করে

5 comments

Skip to comment form

  1. Tor lekhar rating dicchi, critical point e second differential 0. Aro likhte thak. Thambi na…

    1. না ভাই, ক্রিটিকাল পয়েন্টে ফার্স্ট ডিফারেনশিয়াল শূন্য হয়। ফার্স্ট ও সেকেন্ড ডিফারেনশিয়াল শূন্য হলে সেটা ইনফ্লেকশন পয়েন্ট হয়।

      1. Critical Point e first derivative 0 bujhlam, seta classify kortei toh second derivative laage. Setar value dilam 0, hoiya gelo inflection. Bujhchis pagla? 😀

        1. জোর করে ক্লাসিফাই করলেই হইলো? আমি তো ক্লাসিফাই করি নাই :p

    • emon on March 30, 2018 at 1:24 am
    • Reply

    তিন ঘন্টা ধরে পোস্ট গুলো পড়ে চলছি।প্রথম বর্ষের প্রথম ইনকোর্স আজকে দিলাম।প্রশ্নের বেশিভাগটাই পারছিলাম না????।অনার্সে গনিত নিয়েও যদি গনিতের উপর ভালোবাসা না আনতে পারি সেটা আমার ব্যর্থতা।কিন্তু আজকের তিন ঘন্টা চিন্তার একটু হলেও টনক নাড়ল।ভাইয়াদের এত সুন্দর পোস্ট গুলোর মত যদি ক্লাসের লেকচার গুলো হত?☺ ভাইয়াদের কাছে অনুরোধ রইলো গনিতের ভালোবাসাটা বাড়ানোর জন্য আপনাদের সুন্দর পোস্টগুলো একান্তই কাম্য।

মন্তব্য করুন

Discover more from বর্গমূল | Borgomul

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading